শিরোনাম
আমাদের ডেস্ক : | ০৪:১১ পিএম, ২০২১-০১-২৩
আবদুল গাফফার মাহমুদ, ঢাকা ব্যুরো : কথায় বলে “টাকা হলে বাঘের চোখও মেলে”। এই অতি প্রাচীন ও বহুল পরিচিত প্রবাদটি বাংলাদেশের জন্য খুবই প্রযোজ্য। ইদানিং পৃথিবীর অনেক দেশেই এই বহুল পরিচিত প্রবাদের ন্যায় অনেক ঘটনাই ঘটে থাকে। যাক, আজকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা না করে বাংলাদেশে ঘটমান কতিপয় বিষয় নিয়ে একটু আলোকপাত করতে চাই।
সহযোগী দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত খবরের শিরোনামে শুধু বিস্মিতই নই রীতিমত মুষড়ে পড়ার মত অবস্থা। একটি খবর হলো-“কারাগারে হলমার্ক জিএমে’র নারীসঙ্গ তদন্তে ২ কমিটি, ডেপুটি জেলার সহ প্রত্যাহার তিন”। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, দেশে চলছে এক ক্রান্তিকাল। শুধু দেশে নয়। বলতে গেলে সারা বিশ্বই করোনা আক্রান্ত। এই করোনার কালে চলছে এক ধরণের বিশেষ পরিস্থিতি। বাংলাদেশের কারাগারগুলোও তার বাইরে নয়। করোনাকালে কারাগারগুলোতে বন্দীদের সঙ্গে আত্মীয়-স্বজনের দেখা-সাক্ষাৎ সরকারী নির্দেশেই বন্ধ। তবে বিশেষ প্রয়োজনে যদি কারো সঙ্গে দেখা করতে হয়, তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়। বিস্ময়কর বিষয় হলো, প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, “কারা অধিদফতরকে অবহিত না করেই গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার-১ এ একজন বন্দীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছেন এক নারী। ওই বন্দীর নাম তুষার আহমেদ। তিনি সোনালী ব্যাংকের একটি শাখা থেকে ঋণের নামে ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎকারী হলমার্ক কোম্পানীর জিএম ছিলেন। এই তুষার আবার হলমার্ক কেলেংকারীর মূল হোতা তানভীর মাহমুদের ভায়রা।
খবর অনুযায়ী সিসিটিভি’র ফুটেজে দেখা যায়, কারাগারে গিয়ে তুষারের সঙ্গে এক নারী অন্তরঙ্গভাবে মিশছেন। নিয়মভঙ্গ করে একজন চিহ্নিত বন্দীর সঙ্গে কারাগারে বসে দীর্ঘ সময় নারীসঙ্গের ঘটনায় তোলপাড় চলছে। কর্তৃপক্ষ দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তাদেরকে ৭ কার্য্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
এই চমকপ্রদ চরম বিস্ময়কর ও উদ্বেগজনক ঘটনাটি ঘটেছে গত ৬ জানুয়ারী। বিবরণমতে, ৬ জানুয়ারী দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই নারী কারাগারের ভেতরে ঢোকেন। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বেরিয়ে যান। অর্থাৎ দীর্ঘ ৫ ঘন্টা তিনি কারাগারে অবস্থান করেছেন। সিসি ক্যামেরায় পুরো ঘটনাটি ধরা পড়েনি। এর মধ্যে গভীর রহস্য লুকিয়ে রয়েছে। একটি এ্যাম্বুলেন্সে তিনি কারা ফটকে আসার পর ডেপুটি জেলার গোলাম সাকলাইন ও সিনিয়র জেলসুপার রতœা রায় ওই নারীকে অন্য কর্মচারীদের সামনেই গ্রহণ করেন। নি:সন্দেহে এর জন্য মোটা দাগের অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে। তুষার আহমেদের সঙ্গে অপরিচিত ওই নারী অন্তরঙ্গতা ছাড়াও নানা ভঙ্গিতে বেশ কিছু সময় কাটান কারা ফটকের ভেতরে। এটা কি ভাবে সম্ভব? এই প্রশ্ন সব মহলে ভেসে বেড়াচ্ছে। এই ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর পরই কারা কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসক এস.এম. তরিকুল ইসলাম অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আবুল কালামকে প্রধান করে পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন গত ১২ জানুয়ারী।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া সিসি ক্যামেরায় ওই ভিডিওতে দেখা যায়, অন্য দুই যুবকের সঙ্গে ওই নারী কারাফটক পেরিয়ে অফিস কক্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। এরপর কাশিমপুর কারাগার-১ এর ডেপুটি জেল সুপার রতœা রায় ওই নারীকে গ্রহণ করছেন। ওই নারীর গায়ে ছিল বেগুনী রংয়ের সালোয়ার কামিজ ও মুখে মাস্ক।
অনেকটা সাহেবী ও আয়েশী ভঙ্গীতে কালো টি-শার্ট ও কালো রংয়ের প্যান্ট পরা তুষার কারাগার থেকে ফটকের কাছে বাম পাশের একটি কক্ষে ঢুকে পড়েন। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারীও ঢুকে পড়েন একই কক্ষে। বেরিয়ে যান সাকলাইন। আট মিনিট পরে ফেরেন তুষারকে নিয়ে। ১০মিনিট পর অফিস ছাড়েন। বেরিয়ে যান সিনিয়র জেল সুপার রত্মা রায়। কিছু সময় তারা দু’জন ওই কক্ষে কাটানোর পর বেরিয়ে আসেন। কারাগারের কর্মচারী ও নিরাপত্তা কর্মীদের সেখানে দেখা যায়। দু’জন হেঁটে বের হওয়ার সময় তুষার ওই নারীকে একবার প্রকাশ্যে জড়িয়েও ধরেন। এরপর আবার ওই কক্ষে ঢুকে পড়েন। কড়া নিরাপত্তা বাইরে। যেন ভিতরে কোন ভিআইপি রয়েছেন। তারা একান্তে সময় কাটান পৌনে এক ঘন্টা।
কারাগারের দায়িত্বশীল সূত্র বলেছে, এটা সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েনি। শুধু এ অংশই নয়, অনেক কিছুই ধরা পড়েনি। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই নারী ঢোকেন কারাগারে, বেরিয়ে যান বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে। এমন তথ্য দিয়েছেন কারাগারের একাধিক কর্মকর্তা। কারাগারের ভেতরে “নারী সম্ভোগের” এই ঘটনায় হতবাক সকলেই। কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই বলছেন, এটা মোটা দাগের লেনদেন ছাড়া কস্মিনকালেও সম্ভব নয়।
সূত্রমতে সাক্ষাৎকারী নারী তুষার আহমেদের স্ত্রী। তার নাম আসমা শেখ। গ্রামের বাড়ী ফেনীর ছাগলনাইয়ায়। বর্তমানে ঢাকার সবুজবাগে বসবাস করছেন।
উপরে যা বর্ণিত হলো, তা তো রীতিমতো বোম্বের সিনেমার কাহিনীকেও হার মানায়। বর্তমান ডিজিটাল সময়ে যেখানে সবকিছু রেকর্ড হয়। রেকর্ড বর্হিভূত কোনকিছু করা সম্ভব নয়। সেখানে কাশিমপুুর কারাগারের মতো “হাই সিকিউরিটি” একটা কারাগারেও যদি কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ‘ম্যানেজ’ করে এমন মুখরোচক ও নাটকীয় কান্ড ঘটতে পারে।তবে তো বাংলাদেশে অনেক কিছুই ঘটানো সম্ভব। এই অভিমত বোদ্ধাজনদের।
ইতিপূর্বে বেশ কিছু জেলকর্তার কোটি কোটি টাকার দূর্নীতির খবর আমরা পেয়েছি। পত্রিকার পাতায় দেখেছি। কিন্তু অদ্যাবধি কারো বিচার কিংবা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে এমন কোন খবর পাওয়া যায়নি। অতএব, কারাগারে দায়িত্বরতরা দূর্নীতি করবেন, এটাই স্বাভাবিক। তাই বলতে হয়- তবে কি সবকিছুই বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো”।
নিজস্ব প্রতিবেদক : স্পষ্ট করে বলতে চাই, এখানে কোনো সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের আমরা স্পেস দিতে চাই না। যারা সিন্ডিকেট করে প...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে রমজান মাস ঘিরে বাণিজ্যিকভাবে পুদিনা আবাদ করা হয়েছে। উপজেলায় ২০ হেক্টর জম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে রাঙামাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ৩০ (ত্রিশ) পিস ইয়াবা ট্যা...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম-৯ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেছেন, চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা ব...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংগৃহীত বর্জ্য পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুতে রূপান্তর ক...বিস্তারিত
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি : : পবিত্র রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও বাজার মনিটরিং জোরদারের অংশ হিসেবে ফটিকছড়ি উপজেলার কাজিরহ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited